Breaking News

মদ খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে বারাসাত জেলা হাসপাতালে সংঘর্ষে জড়ালেন পুলিশ কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা

নিউজ অনলাইন, বারাসতঃ মদ খাওয়া নিয়ে বচসা।আর তা নিয়েই হাসপাতালে সংঘর্ষে জড়ালেন পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়।ঘটনাটি বারাসত জেলা হাসপাতালের।যদিও, লাঠিচার্জের কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ।ঘটনায় ৭-৮ জন অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করা হয়েছে। উত্তেজনা থাকায় হাসপাতালে মোতায়েন রয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে থেকেই।লকডাউনের মধ্যেও হাসপাতালের ভিতরে মদ খাওয়া নিয়ে কয়েকদিন ধরে বচসা চলছিল হাসপাতালের ভিতরে ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ারের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের।সেই বচসা থেকেই আজ দুপুরে সংঘর্ষ বাঁধে দু'পক্ষের মধ্যে।তুমুল সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।পরিস্থিতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় বারাসত থানাকে।খবর পেয়ে থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ছুটে আসে ঘটনাস্থানে।এরপর,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় তাঁদের।জানা গেছে,সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫-৬ জন আহত হয়েছেন।এদের মধ্যে পুলিশের এক কর্মী ও দু'জন সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে।আহত পুলিশ কর্মী বিদ্যুৎ পালের অভিযোগ, "ক'দিন ধরে লকডাউনের মধ্যেই হাসপাতালে মদের আসর বসাচ্ছিলেন কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক।তাদের মানা করতে সত্বেও তা তারা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।আজ দুপুরে হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সামনে থেকে এক টোটো চালক রোগীকে ওঠাতে যাচ্ছিলেন।সেই সময় কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক রোগী তুলতে বাধা দেয়।তা দেখে আমরা তাদের সরিয়ে দিতে যায়।এমন সময় আমাদের ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করে ওরা।আমরা এর প্রতিবাদ করি।এরপর,আরও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জড়ো করে হামলা চালায় আমাদের কয়েকজনের ওপর।তারপর তো পুলিশ এসে যা করার করেছে"।যদিও,এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধেই মারধর ও লাঠিচার্জের অভিযোগ এনেছে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।ফলে,অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে তপ্ত হয়ে রয়েছে হাসপাতাল চত্বর।

এদিকে,ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন বারাসত পৌরসভার পৌর পারিষদ তাপস দাশগুপ্ত।এবিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন," মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।একটি টোটো রাখাকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে সামান্য তর্কাতর্কি হয়েছে।ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়তো সিভিক ভলেন্টিয়ারকে ধাক্কা দিয়ে থাকতে পারে।এখন সমস্যা মিটে গেছে।সবাই নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে"।

অন্যদিকে,এবিষয়ে বারাসত থানার পুলিশও মুখে কুলুপ এঁটেছে।তবে,পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে,ঘটনায় কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করা হয়েছে।তাঁদের এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments