নিউজ অনলাইন: কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে ও মানুষকে সচেতন করতে এবার ছাপানো ব্যানার পড়ল বাদুড়িয়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নাম করে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জলিল মোল্লা কয়েক লক্ষ টাকা কাটমানী নিয়েছে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে। এছাড়া ওই এলাকায় যেসব ভাটা আছে সেই ভাটা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে বাদুড়িয়া পৌরসভাকে দিতে হয়। সেই টাকা ফেরতের দাবিতে সোচ্চার হয় বাদুড়িয়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি  ইতিমধ্যে অভিযোগ জানানো হয়েছে বাদুড়িয়া পৌরসভাসহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। এখন কি ব্যবস্থা নেই এই সরকার সে দিকে তাকিয়ে গ্রামবাসীরা। তবে শাসক দলের নেতাদের ভয়ে এলাকার মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছে না। এমনকি এলাকায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বানানোর ক্ষেত্রে বাদুড়িয়া পৌরসভা ঘনিষ্ঠ আনারপুর মোড়ের বিশেষ দুটি দোকান থেকে ইমারতি সামগ্রী নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়াও বাদুড়িয়া পুরসভার এক প্রভাশালী তৃনমূল নেতা এলাকার জমি বেনামে স্থানীয় এক মুরগী ব্যবসায়ী বর্তমানে কনট্রাকটর এর স্ত্রীর নামে কেনা হচ্ছে। এলাকার মানুষের দাবি সাধারণ গরীব মানুষের কাছথেকে কাটমানির টাকা নিয়ে বেনামে জমি বাড়ির ব্যবসা করছে বাদুটিয়া পুরসভার বেশকিছু তৃণমূল কাউন্সিল। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক রামপ্রসাদ বিশ্বাস এর অভিযোগ বাদুড়িয়া পুরসভার ১৭ জন কাউন্সিলরদের মধ্যে কয়েকজন বাদে বেশিরভাগেরাই দুর্নীতি, কাটমানির সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পথেকেই এরা কাটমানি খেয়েছে। এলাকার ইটভাটা, নদীর বালি পাচার, সহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকেই নিয়মিত  মাসোহারা নেয় পুরসভার বিভিন্ন নেতারা। তার আরও অভিযোগ জলিল মোল্লা ও তার অনুগামীরা শুধু কাটমানি নেওয়াই নয় সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপি কর্মী যারাই তার কাজের বিরোধিতা করে তাদেরকেই মারধোর সহ প্রান নাশের হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেন না। যদিও এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাদুড়িয়া পুরসভার পৌরপ্রধান তুষার সিংহ। তিনি বলেন পুরসভার কয়েকটি জায়গায় কাটমানি নিয়ে কিছু ব্যানার পোষ্টার পড়েছে শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তার দাবি যদি কেউ যদি কাটমানি নিয়েথাকে এবং সেটা প্রমানি হয় তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মত তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার কিছু মানুষ পরিকল্পিত ভাবে গন্ডগোল পাকিয়ে শান্ত ও পরিচ্ছন্ন বাদুড়িয়া পূরসভাকে অশান্ত করতে চাইছে। তার পাল্টা দাবি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ঘরপাইয়ে দেবার নামকরে ফর্ম পূরনের জন্য একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল বলে শুনেছি। তবে তার দাবি তৃনমূলের কোন কাউন্সিলরই এইসব অন্যায়ের সঙ্গে কোন ভাবেই যুক্ত নয়।

0 comments:

Post a Comment

আয়লার স্মৃতিকে উসকে ধেয়ে আসছে "বুলবুল"

ঋত্বিক দাস, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:-ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করেছে প্রচণ্ড গতিতে ‘বুলবুল'। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় ৯০কিলোম...

 
Top