Breaking News

গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট কোস্টাল থানা এলাকায়

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, নিউজ অনলাইন: মাত্র চার মাস আগে বিয়ে হওয়া এক গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার জুনপুট কোস্টাল থানার কালামিনাপুট গ্রামে ব্যাপক  চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম পূর্ণিমা ভুঁইয়া জানা(১৮)। তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন সকালে বাড়ির কড়িকাঠে শাড়ির ফাঁসে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। ততক্ষণে অবশ্য দেহটি নামানো হয়ে যায়। খবর পেয়ে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁর স্বামী অসীম তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেন বাপেরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় অসীম ও তার মাকে দায়ী করে তাদের একটি গাছে বেঁধেও রাখেন। তাদের উত্তম­­­-মধ্যমও দেওয়া হয়। প্রতিবেশী তথা গ্রামবাসীরা  দাবি করেন, পূর্ণিমার গলায় শ্বাসরোধ করার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে বধূর বাপেরবাড়ির লোকজন কালামিনাপুটে এসে পৌঁছান। তাঁরা তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিস এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিস অভিযুক্ত স্বামী অসীম জানাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিস তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কী কারণে এই ঘটনাটি ঘটল, তা জানার চেষ্টা করছে। পুলিস জানিয়েছে, বধূর বাপেরবাড়ির লোকজন লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি খুন নাকি নিছক আত্মহত্যা, তা পরিষ্কার করে বলা সম্ভব নয়। আপাতত একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র চার মাস আগে কাঁথি থানার মহিষামুন্ডা গ্রামের ভুঁইয়া পরিবারের পূর্ণিমাকে ভালোবেসে বিয়ে করে অসীম। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নানা কারণে মধ্যে সাংসারিক অশান্তি লেগেই থাকত। শনিবার সেই অশান্তি চরমে ওঠে। তারপর এই ঘটনা। পূর্ণিমার বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পূর্ণিমার উপর নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত স্বামী, শাশুড়ি সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। যার পরিণতিতেই আজ এই ঘটনা ঘটল বলেই তাঁদের বক্তব্য।  

No comments