Breaking News

সাবধান! পঙ্গপাল আসছে

কল্যাণ দত্ত, নিউজ অনলাইন: পঙ্গপাল ছোট শিংয়ের বিশেষ একটা প্রজাতি যাদের জীবন চক্র দল বা ঝাঁক বাঁধার পর্যায়ে থাকে। এই পতঙ্গগুলি সাধারণ একাই থাকে ,কিন্তু বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রিত হয়। পঙ্গপাল এবং ঘাস ফড়িং এর মধ্যে কোন পার্থক্যগত শ্রেণীবিভাগ নেই। বিশেষ অবস্থায় তাদের প্রজাতিরা একত্রিত হওয়ার যে প্রবণতা দেখায় সেটাই মূল পার্থক্য। 
 বিশ্লেষকদের মতে পৃথিবীর প্রাণী জগতের  মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর আচরণ দেখাতে সক্ষম পঙ্গপাল।  কেননা অন্য কোন প্রাণী এই পতঙ্গের মত এত  বড় দল নিয়ে  নাটকীয় ভাবে দ্রুত আভির্ভূত হয় না।  
 তিনটি অবস্থার মধ্যে দিয়ে পঙ্গপাল  নিজের জীবন চক্র সম্পন্ন করে
১. ডিম  ২.লম্ফনকারী ডানা বিহীন অথবা হপার  3. পূর্ণাঙ্গ দশা 
আমাদের রাজ্যে ডিম পাড়া ও  নিম্ফো দশায় এদের দেখতে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। 
 বারটি পঙ্গপালের প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক প্রজাতি হলো মরু পঙ্গপাল এবং এটির ভারতে প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।  একটি পতঙ্গ সারাদিনে তার নিজের ওজনের সমপরিমাণ খাবার খেয়ে নিতে পারে। করোনা ভাইরাসের আবহের মধ্যে আরো এক নতুন বিপদের মুখে ভারত।  
বর্তমানে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ বিভিন্ন জায়গায় পঙ্গপাল হানা দিয়েছে। 
এখনই  ভারতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা কম কারণ  কৃষকরা ইতিমধ্যেই রবি শস্য তুলে ফেলেছেন। সমস্যা হবে যখন পঙ্গপালের ঝাঁক বংশবিস্তার করতে শুরু করবে।বর্ষা শুরুর পরে এরা ডিম পাড়তে শুরু করে এবং দুমাস ধরে ডিম পাড়তে থাকে এবং পঙ্গপালের নতুন প্রজন্ম খারিফ শস্য এর সময় পর্যন্ত বাড়তে পারে।  
পঙ্গপাল যখন ফসলের ক্ষেতে আক্রমণ করে তখন তা একজন কৃষকের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্নের বিষয় হয়ে ওঠে। 
যে অঞ্চলে তারা আক্রমণ করে সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অঞ্চলে যায় না। একটা বড় পঙ্গপাল দিনে ১২০ মাইল পর্যন্ত জমির ফসল খেয়ে ফেলতে পারে।  কেবল  খাবারই  খায়  না তারা, একই সঙ্গে প্রজননের কাজটিও করে।   যেহেতু এই পতঙ্গের ঝাক মরুএলাকা থেকে এসেছে তাই দেশের শুষ্ক ও  খরা প্রবণ এলাকায় ঝুঁকি বেশি থাকবে বলে মনে করছেন কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 
সর্বশেষে বলা যেতেই পারে আমাদের রাজ্যে অর্থাৎ পশ্চিমবাংলায় পঙ্গপাল আসার  সম্ভব না নেই বললেই চলে তবুও সাবধান থাকাই  ভালো।

No comments