Breaking News

লকডাউনের জেরে কাজ নেই জরি শিল্পে


কল্যাণ অধিকারী,নিউজ অনলাইন, হাওড়া: লম্বা কাঠের কাঠামোয় টানটান করে বাঁধা থাকতো শাড়ি। লাল, হলুদ,সবুজ শাড়িতে সোনালি-রুপোলি জরির পাথর বসিয়ে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দক্ষ শিল্পীর পরিচয় রাখতো। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন বন্ধ জরির কাজ। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শিল্পের ভবিষ্যৎ। 

জানা গেছে, আমতা ২নং বিডিও এলাকার মৈনান, জয়পুর সহ বিভিন্ন গ্রামে ঘরে ঘরে কাপড়ে জরি বসানোর কাজ হয়। লকডাউন শুরু হতেই সব এলোমেলো হয়ে গেল। চাহিদা থাকলেও জোগান না থাকায় এবং ওস্তাগার ঘরে থাকায়, কাজ দিয়ে যাচ্ছে না। বন্ধ জরি শিল্প। কাজ না থাকায় আগেকার মজুরিও মিলছে না। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও জরি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কথা শুনছে কোথায়। 

মৈনান গ্রামের আনসুরা বেগমের কথায়, তিন মেয়েকে নিয়ে কঠিন সমস্যায় রয়েছি। জরি কাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন তো পনেরো দিন হয়ে গেল একটুও কাজ নেই। কোনক্রমে চলছে সংসার। ভাত ফুটিয়ে আলু সিদ্ধ মাখিয়ে খেতে হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় তিন মেয়ে বাড়িতে। স্বামী ছাড়া সংসারে অভাবের ছিটকিনি তুলে দিচ্ছে 'লকডাউন'। এইভাবে কিভাবে চলবে বুঝে উঠতে পারছি না। সরকার যদি পাশে থাকেন তবুও টিকে থাকার সাহস পেতাম। নইল মেয়েদের পড়াশোনা আটকে যাবে। জরি কাজ করেই তো ওদের পড়াশোনা করাই। সেটাই যদি বন্ধ হয়ে যায় জানিনা কি হবে।

উল্লেখ্য রাজ্যে যে সমস্ত কুটির শিল্প আছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি শিল্প জরি। বাঁকড়া, সাঁকরাইল থেকে কাজ এনে আমতা এক ও দুই বিডিও এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জরি কাজে যুক্ত। কাজ না থাকায় কাঠের কাঠামো মেঝেতে পড়ে।

No comments