Breaking News

গাছ বাঁচানোর শত লড়াই, শেষমেষ হাল ছেড়েছে তাঁরা, নববর্ষেও মারন ভাইরাসের কাছে হার মানল খেটে খাওয়া মানুষের রুজি রোজগার

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, নিউজ অনলাইন: 
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিঘার পর বিঘা নষ্ট দামী ফুল। বাগান জুড়ে সাদা হয়ে ফুটে রয়েছে চন্দ্রমল্লিকা, তবু বিক্রি নেই, চারাগাছের পরিচর্যায় চাষিদের খরচের পরিমাণ প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা, কারো বা লাখ ছুঁইছুঁই। বৈদ্যুতিক তাপ দিয়ে চারাগাছ বড়ো করা হয় তাতেও বিদ্যুৎ বিল এলে খরচ দিতে হয়। তবে বছরে বিঘা প্রতি দু লক্ষ্যের ওপর লাভের মুখ দেখতে পেত চাষিরা, শীতকালীন চাষ এই চন্দ্রমল্লিকা, তবে এই সময়ে প্রায় শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে মাঠে মারা গেল চাষ। বিঘার পর বিঘা নষ্ট ফুল। তবু নেট ঘিরে রেখে রোদ্দুরের তীব্র তাপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায় অসহায় চাষিরা। তবে শেষ আশাটুকুও ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা,বিক্রি নেই,যে ফুল দিল্লী, হায়দ্রাবাদ, পুনে, রাঁচি, চেন্নাই, মুম্বাই যেত বা এই বাংলা নববর্ষ তে কলকাতা র মানুষ রা নিতেন নিজেদের প্রতিষ্ঠান সাজাতে  করোনার থাবায় লকডাউনে বন্ধ ট্রেন, তাই পাইকারীও নেই ,আশায় ছিল হয়তো প্রথম দফার লকডাউনের পর জীবন যাত্রা বা যানবাহন স্বাভাবিক হবে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনার পর দ্বিতীয় দফার লকডাউনের ঘোষণা হতেই একপ্রকার হতাশায় ভেঙে পড়েছেন চাষিরা। দেউলিয়া, কোলাঘাট এমনকি হাওড়ার ফুল বাজারও বন্ধ। কোথাও বিক্রি নেই। বাগান ঘেরা নেট খুলে দিয়েছেন তাঁরা, বাগানেই শুকোচ্ছে ফুল। চাষি বলাইচন্দ্র দাস বলেন চাষেই আমাদের জীবন, চাষের ওপর আমাদের সংসার চলে, কিন্তু এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছি আমরা, এমন ক্ষতির অনুদান পাবো কি না তা জানিনা, কোনো দিকদিশা খুঁজে পাচ্ছি না । অন্যদিকে আরেক চাষি রামপদ দাস বলেন মল্লিকা চাষের পেছনে সত্তর থেকে আশি হাজার টাকা খরচ করেছি, কিন্তু করোনা ভাইরাসের ফলে একটাকারও ফুল বিক্রি নেই, মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ফুল, আমাদের মতো চাষিরা এখনও পর্যন্ত কোনো অনুদান বা ক্ষতিপূরণ পাবো তাঁর কোনো পথ দেখছি না, চাষেই আমাদের জীবন চলে, কুড়ি হাজার টাকার নেট কিনে ছাউনি দিয়েছিলাম ফুলের পাপড়ি যাতে ঠিক থাকে শুকিয়ে না যায়, কিন্তু পরিস্থিতি তা পাল্টে দিলো,বাধ্য হয়ে ছাউনি খুলে দিয়েছি বিক্রি না হলে গাছ বাঁচিয়ে কি করব।  শাঁকটিকরী, বাজু, নস্করদিঘী সহ বিভিন্ন এলাকায় একই ছবি ধরা পড়েছে।

No comments