সৌভিক সরকার : কথা দিয়েছিলেন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে বীজপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে লিড দেবেন। এবং সত্যি তাকে নির্বাচনের আগে দীনেশ ত্রিবেদীর হয়ে মনপ্রাণ দিয়ে খাটতেও দেখা গিয়েছিল। কাঁচরাপাড়া হালিশহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে প্রচারে পা মিলিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না নিজের দেওয়া কথা রাখতে।

প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের পিতা মুকুল রায়ের কাছে হার স্বীকার করে নিলেন। এটাও স্বীকার করলেন তিনিও যেমন বীজপুরের ভূমিপুত্র , তার বাবা মুকুল রায়ও বীজপুরের ভূমিপুত্র। কিন্তু নির্বাচনে তার ১০০ শতাংশ দেওয়ার পরেও  তার বাবাকেই বীজপুরের মানুষ শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করল। এর পিছনে কারণ হিসেবে তার বক্তব্য, " দিনের পর দিন তার পরিবারের প্রতি , এমনকি এই কাঁচরাপাড়ার মানুষকেও যেভাবে তার দলের থেকেই আক্রমণ সানানো হয়েছিল, সেটা বীজপুরের মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি। এবং তার প্রতিফলন ভোট বাক্সে পড়েছে। তবে কি  তার অনুগামীরা এটাই মেনে নিতে পারেনি?

তবে যে দলের হয়ে তিনি এত কিছু সহ্য করলেন, তাকে পদে পদে শুনতে হয়েছে "গদ্দারের ছেলে", সেই দল থেকে কিন্তু যথেষ্ট সম্মান তিনি কখনই পাননি। অথচ তিনি কোনোদিন এর পাল্টা কিছু বলেননি , উল্টে বারবার বলেছিলেন, " একজন সৈনিক হিসেবে  দলের প্রতি আমার আনুগত্য আছে।"
আজ যখন ফল প্রকাশ হল, তারপর তিনি তার সেই অভিমান, ক্ষোভটা আর ধরে রাখতে পারলেন না। সব অভিমান উগরে দিলেন দলের প্রতি। তার অনুগত যারা আছেন, তাদের সাথে আলোচনা করে, এমনকি নিজের বাবার সাথেও আলোচনা করে, নতুন ইনিংস শুরু করা নাকি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে সেই ইনিংস টা কোন মাঠে শুরু করবেন সেটা পরিষ্কার করেননি। কিন্তু তার এই ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি উপস্থিত সাংবাদিক থেকে শুরু করে, অন্যান্যদের। কারণ কয়েক মাস আগে মুকুল রায় কিন্তু বলেই দিয়েছিলেন শুভ্রাংশু রায়ের বিজেপি যোগদান শুধু সময়ের অপেক্ষা।

0 comments:

Post a Comment

হালিশহরের ভাগাড় থেকে উদ্ধার মৃতদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ হালিশহর এর 8 নম্বর ওয়ার্ড এর ভাগাড় থেকে উদ্ধার হল পচা-গলা মৃতদেহ। বীজপুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্...

 
Top